প্রচ্ছদ > বিনোদন >

অভিনেত্রী মীনা কুমারীকে ছুরি দেখিয়ে অটোগ্রাফ আদায় ডাকাত অমৃত লালের

article-img

বলিউডের ‘ট্র্যাজেডি কুইন’খ্যাত অভিনেত্রী মীনা কুমারী মারা গেছেন সেই ১৯৭২ সালে। কিন্তু তাকে নিয়ে অনেক স্মৃতি আজও আলোচিত হয়। মীনার সৌন্দর্যে সবাই মুগ্ধ ছিলেন। সবার মনে রাজত্ব করা অভিনেত্রী মাত্র ৩৯ বছর বয়সে মারা যান। তার জনপ্রিয়তা এতটাই ছিল যে, একবার এক দুর্ধর্ষ ডাকাত তার মুখোমুখি হয়েছিলেন অদ্ভুত এক আবদার নিয়ে। তার কাছে ছুরি দেখিয়ে অটোগ্রাফ চেয়ে বসেছিলেন সেই ডাকাত।

তবে তার ব্যক্তিগত জীবনও কোনো সিনেমার চেয়ে কম ছিল না। অভিনেত্রী চলচ্চিত্র পরিচালক কামাল আমরোহীর প্রেমে পড়েছিলেন এবং তাকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সেই সম্পর্ক বেশি দিন সুখের হয়নি। তারা একসঙ্গে বসবাস করছিলেন, কিন্তু ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং তারা আলাদা হয়ে যান। 

এই ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক মীনা কুমারীকে ভেতর থেকে পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছিল। মীনা কিছুটা অবসাদে ভুগতে শুরু করেন। মৃত্যুর আগে মীনা কুমারীর শেষ সময়টা ভীষণ যন্ত্রণার ছিল। এর মধ্যে মীনা মদপানে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। লিভার সিরোসিসের কারণে তিনি মারা যান।

অভিনেত্রী মীনা কুমারীর জনপ্রিয় সিনেমাগুলোর মধ্যে একটি ছিল ‘পাকিজা’। একবার মীনা কুমারী তার স্বামী কামাল আমরোহীর সঙ্গে ‘পাকিজা’র শুটিংয়ের জন্য শিবপুরী, মধ্যপ্রদেশ গিয়েছিলেন। যাওয়ার পথে চম্বলের জঙ্গলে তাদের গাড়ির তেল ফুরিয়ে যায়। তখনই চম্বলের রাস্তায় তাদের গাড়ির কাছে বেশ কয়েকটি গাড়ি এসে দাঁড়ায়। 

চম্বলের ডাকাত দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন এ তারকা দম্পতি। তারা দেখেন, বেশ কয়েকজন ডাকাত বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে আছে। কামাল তখন একজনকে বলেন, আপনি আপনার সর্দারকে বলুন, তিনি যেন গাড়িতে এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করেন। 

কামাল এ কথা বলার পর একজন এগিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি কে?’ তখন কামাল বলেন, ‘আমার নাম কামাল আমরোহী, আমি এখানে শুটিংয়ের জন্য এসেছি। তারা ‘শুটিং’ শব্দটি শুনে একটু রেগে যান। কারণ তারা ভেবেছিলেন পুলিশ অফিসাররা এসেছেন গুলি চালানোর জন্য। এই ভুল বোঝাবুঝিতে সেখানে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।’

কামাল সাহস করে তাদের নাম জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেন, ‘আপনার নাম কী?’ তারা উত্তর দেন—‘ডাকাত অমৃত লাল চম্বল। তুমি কি এই নাম শুনেছ বম্বেতে?’ 

অমৃত লাল তখন চম্বলের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাত ছিলেন, যার মাথার ওপর বড় পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। কামাল তখন অমৃত লালকে বলেন, তিনি পুলিশ অফিসার নন, এখানে শুটিং করতে এসেছেন, অর্থাৎ সিনেমার শুটিংয়ের জন্য।

এরপর অমৃত লাল কিছুটা শান্ত হন এবং জানতে পারেন যে, অন্য গাড়িতে মীনা কুমারী আছেন। অমৃত লাল মীনা কুমারীর একজন বড় ভক্ত ছিলেন। তিনি তখন কামালকে মীনা কুমারীর সঙ্গে দেখা করার জন্য বলেন। 

অমৃত লাল চম্বল বলেন, তিনি মীনার সঙ্গে দেখা করতে চান এবং তারপর তিনি সবাইকে চলে যেতে দেবেন। অমৃত এরপর সবাইকে গান গাইতে ও নাচতে বলেন। এরপর তিনি কামালের গাড়িতে পেট্রোল ভরে দেন।

ডাকাত অমৃত লাল মীনা কুমারীর অটোগ্রাফ চেয়েছিলেন বটে, কিন্তু কলম ও কাগজ না থাকায় তিনি ছুরি বের করেন এবং কামাল আমরোহী ও মীনা কুমারীর সামনে ধরেন। মীনা তখন খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। এরপর অমৃত লাল চম্বল বলেন, যখন মীনা ছুরি দিয়ে নিজের নাম আমার হাতে লিখবেন, তখনই আমি সবাইকে যেতে দেব।

মীনা তখন ছুরি দিয়ে তার নাম তার হাতে লেখেন এবং তারপর সেখান থেকে সবাই চলে যান।

উল্লেখ্য, মীনা কুমারী শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। মীনা তার ক্যারিয়ারে ‘সাহিব বিবি অউর গোলাম’, ‘পাকিজা’, ‘বৈজু বাওরা’, ‘কাজল’, ‘দিল এক মন্দির’, ‘ফুল অউর পাত্থর’ এবং ‘আজাদ’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেন।